প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 21, 2026 ইং
ঘাটাইলে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মৌচাষিরা। উপজেলার ঘাটাইল সদর ইউনিয়নের মহনপুর গ্রামে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসছেন বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা। এই সরিষা আবাদে বিদেশি তেল আমদানি কম করতে হচ্ছে তাই অপরদিকে স্থানীয়ভাবে মধুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে।
ঘাটাইল উপজেলায় বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ৪ থেকে ৫ জন মৌচাষি সরাসরি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে সরিষা মৌসুম এলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ জন অভিজ্ঞ মৌচাষি এখানে এসে অস্থায়ীভাবে মৌবাক্স স্থাপন করেন। চলতি মৌসুমে সম্মিলিতভাবে তাদের লক্ষ্য ৩০থেকে ৫০টন খাঁটি মধু সংগ্রহ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সরিষা খেতের পাশে সারি সারি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বাক্সে রাখা হয়েছে একটি করে রাণী মৌমাছি। তার নেতৃত্বেই হাজারো শ্রমিক মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে তৈরি করছে খাঁটি মধু। এই আধুনিক পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মধুর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদনও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।
মধু চাষি আবু হানিফ বলেন, তিনি টানা চার বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষের সঙ্গে যুক্ত। তার মালিকানায় বর্তমানে ৩০০টি আধুনিক মৌবাক্স রয়েছে, যা সরিষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ১টন খাঁটি সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, সরিষা ফুলের মধু স্বাদ ও গুণগত মানে আলাদা হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য দুটোই ভালো। পাশাপাশি মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষা ক্ষেতের ফলন বাড়ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুফল বয়ে আনছে।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল এপিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ–এর সভাপতি আবু হানিফ খান বলেন,সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মৌচাষি রয়েছেন। বাংলাদেশের বার্ষিক মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার টন। সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, লিচু ও সুন্দরবনের মধু সবচেয়ে জনপ্রিয়। বছরে প্রায় ৬ মাস মধু সংগ্রহ করা হয়, এর মধ্যে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের সময়কাল প্রায় ২ মাস।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ঘাটাইল উপজেলা সরিষা ফুলের খাঁটি মধু উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেতে পারে।
সরিষা ফুলের হলুদ মাঠ আর মৌমাছির গুঞ্জনে ঘাটাইলের গ্রামাঞ্চল এখন আর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছবি নয় এটি হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় এক নতুন গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতীক।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলসাত জাহান জানান এবার ৪ হাজার ৬শত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছ, ৮৫০টি মৌ বক্স বসেছে এবং ৪টন মধু হার্ভেস্ট হয়েছে,মধু বিক্রি করে এবার চাষিরা লাভবান হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com