ঢাকা | 29 August 2026

মধুপুরে জাল কাবিনে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ : আইনশৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Aug 29, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: এআই দিয়ে প্রতিকী ছবি বানানো ছবির ক্যাপশন: এআই দিয়ে প্রতিকী ছবি বানানো
ad728
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বাল্যবিবাহ, মাদক আর ছিনতাই বাড়ছে। জাল জন্ম নিবন্ধন আর জাল কাবিনে বাল্যবিবাহের দরুন বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ। সামাজিক ও সামষ্টিক উদ্যোগ না থাকায় সামাজিক অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধুপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তারা সামাজিক অপরাধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, 'প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো গ্রামে বাল্যবিবাহ হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঘটছে বিবাহবিচ্ছেদ। বেশ কিছুদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ দুবৃর্ত্তরা চলন্ত মোটরসাইকেলে করে পথচারী নারীদের ভ্যানিটিব্যাগ এবং গলার চেন বা কানের দুল ছিনিয়ে নিচ্ছে।' উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার এবং কুড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মনিরুজ্জামান মনির মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইয়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'দিন-দুপুরে এমন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সঙ্গে ব্যাপক চুরি।' উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং অরনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শারমীন সুলতানা সুমি বলেন, টেলকি ও চুনিয়া এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা। চুরিচামারিও বেড়ে গেছে। অরনখোলা পুলিশ ফাঁড়িকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। আইসিটি অফিসার এবং গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবরারুল হক শিমুল বলেন, মাদক ব্যবসা আগের মতোই চলছে। অহরহ অটোরিকশা, রিকশা চুরি যাচ্ছে।

শহিদ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দীন তরফদার বলেন, বংশাই নদীর তীরে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিসৌধ এখন মাদকের ঘাঁটি। লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে দুবৃর্ত্তরা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজের মেয়েরা এদের উপদ্রবের শিকার হচ্ছে। মধুপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং জামায়াত নেতা মোন্তাজ আলী বলেন, প্রায় প্রতি দিনই উপজেলা শহরে চুরি হচ্ছে। যানজটের দরুন সবার জীবন নাকাল। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ফেরি করে মাদক বিক্রি হয়। দেখার কেউ নেই।

মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল বলেন, প্রতি মাসেই মাদকসহ অপরাধী আটক এবং উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। জনগন সহযোগিতা না করলে শুধু পুলিশ দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং গ্রাম পুলিশ বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রশাসনের অগোচরে বিয়ে হয়। চলতি মাসে মাদক সেবন এবং বেচার অভিযোগে সাত জনকে জেল-জরিমানা করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে সব নাগরিকের সামাজিক ভূমিকা থাকতে হবে। মাদকের বিস্তারের জন্য প্রথম দায়ী পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে এ জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি নিতে হবে।'


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ