টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিএনপির দোয়া মাহফিলের আয়োজনের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর (বীরউত্তম) পূর্ব নির্ধারিত সমন্বয় সভা স্থগিত করা হয়েছে। নিজের আয়োজন বন্ধ করে কাদের সিদ্দিকী বিএনপির দোয়া মাহফিলে গিয়ে আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন। পরে তিনি বিএনপির সভাস্থল ত্যাগ করে ফিরে যান। বুধবার বিকেলে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপির উত্তেজিত নেতাকর্মীরা কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন- তাঁদের দোয়া মাহফিলটিও পূর্ব নির্ধারিত ছিল।
জানা গেছে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) বুধবার বিকেলে তাঁর বাসভবনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে নিয়ে সমন্বয় সভা ডাকেন। এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনের সামনের একটি মসজিদ মাঠে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। ওই আয়োজনের কয়েকটি মাইক কাদের সিদ্দিকীর বাসার সামনেও টাঙানো হয়। বিকেল চারটার দিকে কাদের সিদ্দিকী নিজের বাসায় আসেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি প্রয়াত খালেদা জিয়ার জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি নিজের সমন্বয় সভা স্থগিত ঘোষণা করে পরের দিন (আজ বৃহস্পতিবার) করার সিদ্ধান্ত দেন।
পরে কাদের সিদ্দিকী বিএনপির আয়োজিত দোয়া মাহফিলে গিয়ে বলেন, আপনারা দোয়ার আয়োজন করেছেন এটা আমি জানতাম না। আপনাদের সম্মান জানিয়ে আমি আজকের মিটিং কালকে দিয়েছি। আমি চাই সুষ্ঠু সুন্দর ভোট হোক।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমি বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন করি নাই। বিএনপি নেতা কর্তৃক (বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আযম খান) একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে মারার জন্যে, অপমান করার জন্য, একজন মুক্তিযোদ্ধার পিঠের চামড়া তোলার কথা বলার জন্যে তাঁর বিরুদ্ধে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। এ সময় উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব কথা বিরোধীতা করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন। পরে কাদের সিদ্দিকী ওই সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে কাদের সিদ্দিকী তাৎক্ষণিক কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের দোয়া মাহফিলটি পূর্ব নির্ধারিত ছিল। ওখানে গিয়ে ওনি (কাদের সিদ্দিকী) কথা বলতে চাইলে সম্মান জানিয়ে আমরা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ওনি এমন একটি বাক্য বললেন যার কারণে আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে আমরা তাদের নিভৃত করে কাদের সিদ্দিকী সাহেবকে বিদায় করে দিয়েছি।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) সম্প্রতি লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে সমর্থন দিয়েছেন। সমর্থনের বিষয়ে তিনি প্রায়ই বলে থাকেন, আমরা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। তবে এ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অপমানজনক কথা বলেছেন। এ কারণে আমরা আযম খানের বিরুদ্ধে।