টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হাসপাতালের ওষুধকান্ডে জনঅসন্তোষ বাড়ছে ঘটনার পর থেকেই সড়ক অবরোধ, মিছিল , মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। শুধু পিকআপ চালককের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেয়ায় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিক ও সাধারণ জনতার দাবী জড়িত মূল হোতাদের আড়াল করতে শুধু ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনটা দাবী করে আজ শনিবার ঘাটাইল কলেজমোড় থেকে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করেন। পরে ট্রাকচালকের মুক্তির দাবীতে তারা থানায় অবস্থান নেয়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী তাদের।
ঘাটাইলের সাধারণ মানুষসহ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিলে ও মানববন্ধনে অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে কলেজমোড় চত্বরে সমাবেশ হয়। সমাবেশে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালাম খান আওয়াল বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত একজন সদস্যও যেন বিচার ছাড়া কোনোভাবেই বের হয়ে না যেতে পাওে সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন, হাসপাতালের স্টোরকিপার সেলিম হোসেনের স্পস্ট বক্তব্য তাকে ওষুধগুলোর সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন আবাসিক চিকিৎসক। তাহলে আবাসিক চিকিৎসককে কে নির্দেশ দিয়েছেন? অবশ্যই হাসপাতালের প্রধান। অথর্ভ সিভিল সার্জন ঘটনার চারদিন হলেও কোনো প্রকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে নাই। তিনি সিভিল সার্জনেরও অপসারণ চান। তিনি আরও বলেন, শুধু চালকের উপর দোষ চাপিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা আমরা কখনোই মেনে নেব না। যতক্ষণ পযর্ন্ত না এর সমাধান হবে ততক্ষণ পযর্ন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাগর বলেন, ওষুধ কেলেঙ্কারির ঘটনা সারাদেশে ভাইরাল হয়েছে। হাসপাতলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই ঘটনা পরিস্কার হবে। তার প্রশ্ন প্রশাসন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা? এ ঘটনায় কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। অন্যান বক্তারা বলেন, ওষুধ কেলেঙ্কারির ওই ঘটনায় শুধু ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হল এবং হাসপাতালের অন্যদের কেন মামলার আসামী করা হলোনা ।
এদিকে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মোকছেদুর রহমান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা চুরি মামলায় মিনিট্রাক চালক আজমত আলীকে আদালতে পাঠালে সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনের নাম বলেন আজমত। আদালতে তার দেওয়া তথ্যমতে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলে ওষুধকান্ডে জড়িত মূল হোতাদের বের করা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ১১ টার দিকে এক মিনিট্রাক মেয়াদোত্তির্ণ ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকায় ওষুধসহ আটক হয় চালক আজমত। তার দাবী ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের লোকজনই তার গাড়ি ভাড়া করে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবারও সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল এবং হাসপতাল ঘেরাও করে ঘাটাইল মিনিট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা।