ঢাকা | 25 January 2026

মির্জাপুরে চলছে লালমাটি চুরির উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Jan 19, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728

বিশেষ প্রতিবেদক 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে থামছে না পাহাড়ের লাল মাটি চুরি। লাল মাটি চুরির ফলে উজার হচ্ছে গাছাপালা ও বনভুমি। পাহাড়ি এলাকায় জীব বৈচিত্রসহ পরিবেশ হুমকির মুখে পরেছে। প্রশাসের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট চক্র ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি চুরির ফলে এলাকার রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একটি চিহিৃত প্রভাবশালী মহল মাটি চুরির মহোৎসবের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ের লাল মাটি কেটে বিক্রি করে সিন্ডিকেট চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।  

আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুমিদস্যু মাটি চোর চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে পাহাড়ের লাল মাটি কেটে নিচ্ছে। উপজেলার গোড়াই, আজাগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল এই পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ের লাল মাটি চুরি করে কেটে নেওয়ার ফলে এলাকার পরিবেশ এখন বিপন্ন হওয়ার পথে। এলাকার ভুক্তভোগিদের প্রাপ্ত অভিযোগের তথ্যে জানা গেছে, মাটি ব্যবসায়ীরা পাহাড়ের লাল মাটির টিলা কেটে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রটি দিনে ও রাতের আঁধারে উপজেলার তেলিনা মধ্যপাড়া, আজাগানা, গোড়াই, নাজিরপাড়া, পালপাড়া, ক্যাডেট কলেজ, সৈয়দপুর, মহিষবাথান, সিটমামুদপুর, টাকিয়াকদমা, হাটুভাঙ্গা, মোথারচালা, বালিয়াজান, বংশীনগর, বেলতৈল, মুচির পুকুর, পেকুয়াসহ কটামারা, তরফপুর, দরানীপাড়াসহ ২৫-২০ টি স্পটে পাহাড়ের লাল মাটির টিলা কেটে নিচ্ছে। দিন রাত পাহাড়ের লাল কেটে নেওয়ার ফলে পাহাড়ের জীব বৈচিত্রসহ এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন। মির্জাপুর উপজেলার পাশাপাশি পাশ^বর্তী কালিয়াকৈর, সখীপুর ও ঘাটাইল উপজেলার পাহাড় থেকে লাল মাটি চুরি করে কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মির্জাপুরে নিয়ে আসছে। পাহাড়ের লাল মাটি কেটে ড্যাম ট্রাক দিয়ে বহন করায় গোড়াই-সখীপুর রোড, পেকুয়া-পাথরঘাটা রোড, হাটুভাঙ্গা-আজগানা রোড, তালতলা-বালিয়াজান রোড, মির্জাপুর-টাকিয়াকদমা রোড, হোসেন মার্কেট- টাকিয়াকদমা রোডসহ ২০-২৫ টি আঞ্চলিক রোড ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে। অপর দিকে শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার ফতেপুর, থলপাড়া, চাকলেশর, গোড়াইল, ত্রিমোহন নদীর ঘাট, কোদালিয়া, হাটুভাঙ্গা, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, ওয়ার্শি, নাগরপাড়া, উফুলকী, গুনটিয়া, মাঝালিয়া, উফুলকী, আনাইতারা, বানাইল, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়াসহ বিভিন্ন স্পটে চলছে ফসলি জমি, নদী, খাল, জলাশয়ের বালি ও মাটি চুরির মহোৎসব চলছে।

ভুক্তভোগিরা জানায়, এক শ্রেণীর মাটি ব্যবসায়ী ও ভুমি দস্যুরা আবাদি জমি, রাস্তঘাট, বসতবাড়ি এবং নদীর বুকে ভ্যেকু বসিয়ে দিনে-রাতে বালি এবং লাল মাটি কেটে নিচ্ছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগি এলাকার ভুক্তবোগিদের মধ্যে পাহাড়ি এলাকার লাল মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, মজিদ মিয়াসহ অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মাটি ব্যবসায়ীদের পাহাড়ের লাল মাটি কাটা বাঁধা দিলে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিচয়ে ভয়ভিতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দিয়ে থাকেন। এ বছর এই মাটি চোর ব্যবসায়ীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তারা কোন পাত্তা দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহীনুল ইসলাম এবং আজাগানা বিটের বিট কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় পাহাড় ও পাহাড়ের লাল মাটি রক্ষার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তারা বরেণ পাহাড় হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব। অনেক সময় দৃবৃত্তরা রাতের আাঁধারে ও বিভিন্ন কৌশলে পাহাড়ের আশাপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন ও পাহাড়ের লাল মাটি চুরি করে কেটে নিয়ে থাকে। পাহাড়ের জীব বৈচিত্রসহ এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পরেছে। লাল মাটি কেটে নেওয়ার খবর পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয় মাটি কাটা বন্ধসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। অনেক সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ড্রাম ট্রাক জব্দসহ অর্থদন্ড দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক আজিজ বলেন, পাহাড়ের লাল মাটি অবৈধ ভাবে কেটে নেওয়া বিক্রির অপরাধে ড্যাম ট্রাকসহ এক্্রলেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) জব্দ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে মাটি চোর চক্রের সদস্যদের নিকট থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ড আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এলাকার পাহাড়, নদী, জলাশয় ও ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে তাদের মোবাইল কোর্ট অভিযান আরও কঠোর ভাবে পরিালনা হবে বলে প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ