মনোনয়ন কেন্দ্রীক গড়ে উঠা বিভাজন মুক্ত হলো মধুপুর উপজেলা বিএনপি। সোমবার বিকেলে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নির্বাচনী সভায় স্বপন ফকির ও মোহাম্মদ আলী গ্রুপের নেতারা একমঞ্চে দাড়িয়ে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের এই বিভাজন দূর হয়।
জানা যায়, ৫আগষ্ট জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন যুদ্ধে নামেন অর্ধডজন বিএনপি নেতা। এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। স্বপন ফকিরের সমর্থনে মাঠে-ঘাটে বিরামহীন কাজ করেছেন মধুপুর উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগি সংগঠনের পদধারী নেতৃবৃন্দ। আর মোহম্মদ আলীর পক্ষে মাঠ গরম করে রাখেন উপজেলা কমিটিসহ বিভিন্ন পদে বঞ্চিত নেতৃবৃন্দরা।
৩ নভেম্বর স্বপন ফকিরকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দিলে মনোনয়ন বঞ্চিত মোহাম্মদ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তার মনোনয়ন বাতিল হয়। তিনি নির্বাচনে আপীল করেন। আপীলে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক গ্রহণ করেন। ২১ জানুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশের একদিন পর তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার এই সিদ্ধান্তের তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হলেও ফকির মাহবুব আনাম স্বপন অনেকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সান্তনা দেন। এর ফলশ্রুতিতে ২৬ জানুয়ারি সোমবার মধুপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনের নির্বাচনী সভা বিএনপির উভয় গ্রুপের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সভায় বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা গ্রুপ করেছি পদের প্রশ্নে। প্রার্থীর প্রশ্নে। ধানের শীষের বিরুদ্ধে গ্রুপিং করিনি কেউ। আজ সভায় যোগদানের আগে সকলের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি বলে দিচ্ছে সকল নেতা-কর্মী বিএনপর প্রশ্নে, ধানের শীষের পক্ষে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ধানের শীষকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কোনভাবেই কাউকে কোন ধরণের অবমূল্যায়ন করা যাবেনা। যদি কেউ কোন ধরণের অবমূল্যায়ন করেন বা অমর্যাদা করার চেষ্টা করেন সেই অভিযোগ আসামাত্র তাদেরকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। কারণ যারা আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন তারা বিএনপির নেতা-কর্মী। তারা শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের সৈনিক। তারা ধানের শীষের বিজয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে। কাজের মাধ্যমেই আগামীতে প্রত্যেকের মূল্যায়ন করা হবে।
সভায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেন, বিএনপি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনে অনেক ত্যাগি নেতাকর্মী আছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলীও একজন ত্যাগি নেতা। সেও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তারা বিভিন্ন পদের দাবিদার হতে পারেন। গ্রুপিং হতে পারে। কিন্তু ধানের শীষের প্রশ্নে সবাই এক। আজকে ধানের শীষের বিজয়ের প্রশ্নে সব কিছু ভুলে তারা একত্রিত হয়েছেন একমঞ্চে। আজকের মিলন মেলা বলে দিচ্ছে আগামীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মধুপুর-ধনবাড়ী থেকে এমপি নির্বাচিত করবে। ৪৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে আজকের এই সময়োপযোগি সিদ্ধান্ত। আমি ২৫ বছর আপনাদের ছেড়ে যাইনি। আগামীতেও ছেড়ে যাবোনা। আপনারা মিলে মিশে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। আজকের এই দিনে সরকার সহিদ আমাদের সাথে থাকলে মিলনমেলা আরও সমৃদ্ধ হতো। সে অনেক খুশি হতো। তিনি আজ নেই । দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, শালিস করবে তাদেরকে নেতৃত্বে জায়গা হবেনা। তারেক রহমান যেমন চাঁদাবাজিকে টুটি চেপে ধরতে চেয়েছেন। আমিও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেবোনা। চাঁদাবাজি, মাস্তানিসহ যেকোন ধরনের অপকর্মের খবর এলে শুধু সাংগঠনিক নয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহম্মদ আলী গ্রুপের অন্যতম নেতা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবলু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর তালুকদার, সাবেক সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্নাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এম রতন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পৌরবিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স, পৌরবিএনপির সহসভাপতি আনোয়ারা ইসলাম লিলি, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মোতালিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।