টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওয়াশরুম গোপন ক্যামেরা লাগানোর অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে এই অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও রায়হান কবির ইমনকে হাসপাতালে অবরুদ্ধ করে রাখে অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রট, পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯০৭ নম্বর ওয়াশ রুমে এক নারী চিকিৎসক স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান৷ তিনি ওই ক্যামেরাটি নিয়ে বের হলে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমন ওই ক্যামেরাটি নিতে ধস্তাধস্তি করে। ওই নারী চিকিৎসককে একটি কক্ষে আটকে রাখার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে কলম ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলে। ইমনের বিরুদ্ধে বিগত ৫ বছর যাবত অন্যান্য ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। রোববার রাতেই ওই নারী চিকিৎসক যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
সোমবার সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফকে সভাপতি করে ৫ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতালের পরিচালক। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে কক্ষে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হলে ইমনসহ পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে অন্যান্য চিকিৎসকরা। পুলিশের কাছে সোপর্দের আগে ইমনকে উত্তম মধ্যম দেয় ক্ষুব্ধরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, আমরা আতংকিত শঙ্কিত। যদি এর আগে গোপন ক্যামেরায় কারো দৃশ্য ধারণ করে থাকে তাহলে আত্মসম্মান নিয়ে টানাটানি বাজাতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, এ ঘটনায় তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইমনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, অভিযুক্ত ইমনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সংগঠিত ঘটনার পূর্বাপর বিষয় নিবীড়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।